দেশে এ বছর ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর প্রায় ৪০ শতাংশই উপকূলীয় ১৯ জেলার, প্রথম আলোর বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৩১২। এর মধ্যে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ হাজার ১৪৮ জন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্যে দেশে মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ২৫১ এবং মৃত্যু বেড়ে ৩৫২-তে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৮৫১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
উপকূলীয় এলাকার মধ্যে খুলনার মোংলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০টি শয্যা থাকলেও গত ১৮ অক্টোবর সেখানে ভর্তি ছিলেন ৩১ জন ডেঙ্গু রোগী। এ বছর এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩২ জন।
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহন শাহিন প্রথম আলোকে বলেন, আগে এই এলাকায় ডেঙ্গু তেমন দেখা যেত না। এখন স্থানীয়ভাবে রোগী বাড়ছে এবং অনেককে ডেঙ্গু শক নিয়ে ভর্তি হতে হচ্ছে।
উপকূলীয় জেলাগুলোতে সংক্রমণ বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব এলাকায় আগে ডেঙ্গুর তেমন সংক্রমণ হয়নি, তাই অনেকের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। নিরাপদ পানির সংকটে অনেক পরিবার পানি জমিয়ে রাখে, যা এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি করে।
এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিনিধির অনুপস্থিতি, জলাবদ্ধতা এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত পানি সংরক্ষণের পাত্রও মশার বিস্তারে ভূমিকা রাখছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, শুধু রোগীর চিকিৎসা নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার দিকেও একই গুরুত্ব দিতে হবে।
রাজধানীর বাইরে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ আগেও দেখা গেছে। গত ৬ অক্টোবর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪০ শয্যার ডেঙ্গু ইউনিটে ১১৪ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন ১১৯ জন।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৩৪২ জনের, যার মধ্যে উপকূলীয় জেলার বাসিন্দা ১১৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাবে দেশে এখন পর্যন্ত মোট রোগী ১ লাখ ১৪ হাজার ২৫১ এবং মৃত্যু ৩৫২।



