২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হারের পর রেফারির সমালোচনা করায় মিসরের কোচ হোসাম হাসানকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফিফা। একই ঘটনায় তাঁর যমজ ভাই ও দলীয় পরিচালক ইব্রাহিম হাসানকেও তিন ম্যাচ এবং ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোকে পাঁচ ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) এ শাস্তির কথা জানায়। সংস্থাটির বরাতে প্রথম আলো ও বাংলা ট্রিবিউন উভয়ই জানিয়েছে, শাস্তির বিস্তারিত কারণ জানতে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির কাছে আবেদন করা হয়েছে। আপিলের আইনি দিক খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছে ইএফএ।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। এরপর ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও যোগ করা সময়ে এনসো ফার্নান্দেসের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের ৫৮ মিনিটে মোস্তফা জিকোর একটি গোল ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে বাতিল করা হয়। ম্যাচের শেষ দিকে মিসরের পেনাল্টির আবেদনও নাকচ করেন রেফারি। এরপরই যোগ করা সময়ে আর্জেন্টিনা জয়সূচক গোলটি করে।

হারের পর সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান ম্যাচের কয়েকটি সিদ্ধান্ত ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে বলে অভিযোগ করেন। হয়তো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টে ধরে রাখার চেষ্টা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে জিকোকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

ফিফার রেফারিংবিষয়ক প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা অবশ্য রেফারির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের অভিযোগ রেফারি ও তাঁদের পরিবারের বিরুদ্ধে হুমকি তৈরি করতে পারে।

নিষেধাজ্ঞার কারণে নভেম্বরে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস বাছাইপর্বের পরবর্তী রাউন্ডে মালাউইয়ের বিপক্ষে ম্যাচে হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসানকে পাচ্ছে না মিসর। মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে প্রথম ম্যাচেও তাঁদের অনুপস্থিত থাকার কথা। জিকোকে জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হবে আগামী জুন পর্যন্ত।

মিসর শেষ ষোলোতে বিদায় নিলেও রেফারিং নিয়ে বিতর্কের কারণে ম্যাচটি আলোচনায় থাকে। এখন ফিফার দেওয়া শাস্তির পূর্ণ ব্যাখ্যা এবং সম্ভাব্য আপিলের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে মিসরীয় ফুটবল কর্তৃপক্ষ।