নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ফার্নেস অয়েলের একটি গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এসও এলাকায় এই আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিটের প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
গোদনাইল এসও রোড ও মেঘনা ডিপো এলাকা নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যস্ত শিল্পাঞ্চলের অংশ। এখানে জ্বালানি তেল, ফার্নেস অয়েল ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থের গুদাম রয়েছে। এমন এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে ধোঁয়া ও আগুন দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
আদমজী ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র ইনচার্জ মিরন মিয়া জানান, খবর পাওয়ার পর একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
গোডাউনটি গোদনাইল এসও রোডের মেঘনা ডিপো এলাকায় অবস্থিত। ঘটনার সময় গোডাউনের মালিকপক্ষকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রতিবেদন। ফলে গোডাউনটির বৈধতা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
ফার্নেস অয়েল সাধারণত শিল্পকারখানার বয়লার ও চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ঘন এই তেলের আগুনে বিপুল পরিমাণ কালো ধোঁয়া তৈরি হয় এবং তা দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার কাছাকাছি এ ধরনের জ্বালানি তেলের গুদাম থাকলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ে।
জ্বালানি তেলের গুদামে আগুন লাগলে তা নেভানো কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ তেলের স্তর থেকে আগুন দ্রুত ছড়ায় এবং ধোঁয়া আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের স্থাপনায় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, নিরাপদ দূরত্ব ও প্রশিক্ষিত কর্মী থাকা জরুরি বলে অগ্নি নির্বাপণ বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার পর গোডাউনের আশপাশে ধোঁয়া ও আগুন দেখে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি বলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাও এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। আগুন নেভানোর পর গোডাউনের ভেতরে কী পরিমাণ তেল ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ ছিল, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস বলছে, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে জানানো হবে। এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি নির্ধারণ করতে সময় লাগে, কারণ পুড়ে যাওয়া পণ্যের পরিমাণ ও গুদামের কাঠামোর ক্ষতি আলাদাভাবে হিসাব করতে হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে আগুনের কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না বা গোডাউনের মালিকের বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না—এসব বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত না জানানো পর্যন্ত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনিশ্চিতই থাকছে।



