কুমিল্লার লাকসামে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনের পেছনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আজগরা বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো যাত্রীর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রেলওয়ে সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনটিতে প্রায় ১০টি বগি ছিল। এর মধ্যে ইঞ্জিনের পেছনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার পর লাকসাম রেলওয়ে জংশন থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। লাইনচ্যুত বগিগুলো সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।
লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশনমাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে একটি লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে, অন্য লাইন দিয়ে দুই দিকের ট্রেন চলছে। উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং দ্রুত উভয় লাইনে চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব চন্দ্র কর বাংলা ট্রিবিউনকে ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি এবং রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার শেখ আনোয়ার বলেন, লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারে রেসকিউ টিম পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত বগিগুলো উদ্ধার করে চলাচল স্বাভাবিক করার আশা করা হচ্ছে।
ঘটনার সময় ট্রেনে ছিলেন ফেনী থেকে আসা যাত্রী আবুল কালাম। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, লাকসামের নাওটি স্টেশন পার হওয়ার পর বিকট শব্দে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, নাওটি স্টেশনের উত্তর পাশে বগিগুলো লাইনচ্যুত হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে বলা হচ্ছে, রেললাইনে কাজ চলার সময় লাইন খোলা থাকার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই ব্যাখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। লাকসাম জংশনের স্টেশনমাস্টার বলেন, রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ কোনো কাজ করলে আগে ও পরের স্টেশনকে জানায়। কিন্তু এ ধরনের কাজের কোনো তথ্য তিনি পাননি।
ঘটনার সময় ওই এলাকায় রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের কাজ চলছিল কি না, তা জানতে প্রথম আলো ফেনী অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী সারোয়ার আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে। তবে তিনি সাড়া দেননি। ফলে লাইন খোলা রাখা হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ দেশের ব্যস্ততম রেলপথগুলোর একটি এবং লাকসাম জংশন এই পথের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। এই রুটে প্রতিদিন বহু আন্তঃনগর ও যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। তাই একটি লাইন বন্ধ হলে শুধু ওই ট্রেনের যাত্রীরা নন, পরবর্তী ট্রেনগুলোর যাত্রীও বিলম্ব ও ভোগান্তির মুখে পড়েন।
দেশে ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা নতুন নয়। রেললাইনের পুরোনো অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং চলাচলের চাপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই ঘটনার কারণ হিসেবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়নি; তদন্ত ছাড়া কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এখনো যা অজানা: দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, ঘটনার সময় লাইনে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল কি না, ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না এবং ঠিক কখন থেকে উভয় লাইনে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে। এ বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সামনের ধাপে লাইনচ্যুত বগি সরিয়ে রেললাইনের ক্ষতি পরীক্ষা করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে বন্ধ লাইনটি চালু করার কাজ হবে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা দ্রুত চলাচল স্বাভাবিক করার আশা করলেও এর নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি। দুর্ঘটনার পর ওই রুটে কোনো ট্রেন বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।



