নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে হত্যার মামলায় দ্বিতীয় ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-১৪। বুধবার দুর্গাপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের কয়েকটি সূত্র গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গ্রেফতার আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণের (২৩) বাড়ি দুর্গাপুর পৌরসভার বাগিচাপাড়া এলাকায়; তাঁর বাবা শাহিন মিয়া। মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটার দিকে দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশিকুর শামীম আহমেদ ওরফে ‘শুটার’ শামীমের চাচাতো বোনের ছেলে এবং তাঁর সহযোগী।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্গাপুর থানার এসআই আসাদুল ইসলাম বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, এসআরবি-১৪-এর একটি দল আশিকুরকে গ্রেফতার করেছে। তাঁকে দুর্গাপুরে ফিরিয়ে আনতে ময়মনসিংহে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই মামলায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে দুর্গাপুর পৌর শহরের মধ্যবাজারে পুরোনো সিনেমা হলের পাশ থেকে সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপরূপকে (৩০) গ্রেফতার করে পুলিশ। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আলোচিত তাজুল ইসলামের (৩৮) সহযোগী হিসেবে পরিচিত তিনি। সোমবার আদালতে হাজির করার পর তাঁর এক দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর হয়; মঙ্গলবার আদালত আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ১৫ অক্টোবর রাত আটটার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুনজিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ির কাছের একটি দোকানের সামনে গুলিবিদ্ধ হন লুৎফুজ্জামান। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ময়নাতদন্তে তাঁর শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর তাঁর স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ বুধবার বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাতজনের পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ তথ্য পেয়েছে এবং তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই তাঁদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। একই বক্তব্য দিয়েছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। মঙ্গলবার নেত্রকোনায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আসামিদের শনাক্তকরণে পুলিশ অনেকদূর এগিয়েছে এবং দ্রুতই তাঁদের গ্রেফতার করা যাবে।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী তদন্ত এগোলেও হত্যার উদ্দেশ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সাতজনের মধ্যে কে বা কারা সরাসরি ঘটনায় জড়িত, গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত কী, এবং সাংবাদিকতার কাজের সঙ্গে এই হত্যার সংযোগ আছে কি না—এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তরও এখনো পাওয়া যায়নি। মামলার অভিযোগপত্র কখন জমা হবে, তাও নিশ্চিত নয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আশিকুরকে দুর্গাপুরে আনার প্রক্রিয়া চলছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইবেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের পর মামলার পরবর্তী অগ্রগতি জানানো হবে বলে পুলিশের বক্তব্যে ইঙ্গিত রয়েছে।

বাংলাদেশে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে হুমকি ও সহিংসতার ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে এই মামলায় হত্যার কারণ নিয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি; ফলে ঘটনাটি সরাসরি সাংবাদিকতার কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা অনুমান করে বলা যাচ্ছে না। তদন্তের ফলাফলই এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে।