পোশাক খাতের শ্রমিকদের মজুরি পুনর্বিবেচনার জন্য নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন শ্রম অধিদপ্তর মালিক ও শ্রমিক পক্ষের সংগঠনগুলোর কাছে প্রতিনিধির নাম চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবসু সামাদ আল আজাদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, সংগঠনগুলোর কাছে তিনজন করে প্রতিনিধির নাম পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। নাম জমা পড়লে দ্রুত নতুন বোর্ড গঠন করা হবে।
শ্রম সচিব আবদুর রহমান তারাফদার বলেছেন, শ্রমিকরা রাস্তায় নামার পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠক করে নাম চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্ড কবে গঠিত হবে—এমন প্রশ্নে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেননি।
বর্তমানে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা, যা ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর। শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, বাড়তি মূল্যস্ফীতির কারণে এই টাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি দাবি করছে।
২০২৬ সালে শ্রম আইন সংশোধন করে মজুরি পুনর্বিবেচনার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে তিন বছরে নামানো হয়েছে। সেই হিসাবে ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামোর প্রক্রিয়া এগোনোর কথা। শ্রমিক নেতারা বলছেন, বোর্ড গঠনে দেরি হলে সময়সীমা রক্ষা কঠিন হবে।
গত ১৪ ও ১৫ অক্টোবর উত্তরার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বেতন বাড়ানোর দাবি জানান। এরপর সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেয়।
শ্রমিক নেতা তৌহিদুর রহমান সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এই পদক্ষেপ আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল।
নতুন বোর্ডে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি, একজন স্বাধীন সদস্য ও সরকারি প্রতিনিধি থাকবেন। মজুরি নির্ধারণে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে এই বোর্ড।



