হরমুজ প্রণালীতে নৌ-মাইনে আঘাত লেগে দুইটি তেলবাহী সুপারট্যাংকারে আগুন ধরেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার আইআরজিসি নৌবাহিনীর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানায়।

আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইউএনবি জানায়, দুইটি জাহাজের প্রতিটিতে ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল ছিল। এর মধ্যে দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে শনিবার সকালে; জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে বিস্ফোরণ হয় এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে। নৌবাহিনীর দাবি, জাহাজটি জিপিএস ও রাডার বন্ধ রেখে অননুমোদিত পথে প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করছিল।

এর আগে শনিবারই একই ধরনের আরেকটি বিস্ফোরণের কথা জানায় আইআরজিসি; সেটিতেও জাহাজে আগুন ধরে। সংবাদ সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে সমকালের খবরে বলা হয়, নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টার সময় মাইনে আঘাত লেগেছে বলে দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালীতে চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে ইরান। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ওই দুই দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত জাহাজের নিরাপদ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। প্রণালীটি সবচেয়ে সরু জায়গায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার চওড়া; বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়।

এদিকে হরমুজে হামলা বেড়ে যাওয়া ও রাশিয়ার সরবরাহ নিয়ে শঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। রয়টার্সের বরাত দিয়ে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, ব্রেন্ট ক্রুড শুক্রবার ৩ ডলার ৯৪ সেন্ট (৩ দশমিক ৭ শতাংশ) বেড়ে ১০৯ ডলার ৮৬ সেন্টে নিষ্পত্তি হয়, যা গত ১৯ মে-এর পর সর্বোচ্চ। মার্কিন ডব্লিউটিআই ৩ ডলার ৪৪ সেন্ট বেড়ে ১০১ ডলার ৪১ সেন্টে দাঁড়ায়।

দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ২ কোটিরও বেশি ব্যারেল জ্বালানি ছাড়তে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নিজের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল দেওয়ার প্রস্তাব চেয়েছে। এর আগে ৩০টির মতো দেশের সঙ্গে মিলে বিশ্বের মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল ছাড়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল ওয়াশিংটন।

আইআরজিসির দাবিটি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টস। সৌদি আরবের ইয়ানবু শহরের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।