দখলকৃত পশ্চিম তীরে শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইউরোপীয় কূটনীতিকদের একটি বহরে হামলা চালিয়েছে মুখোশধারী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। রামাল্লার কাছে খ্রিস্টান অধ্যুষিত তাইবেহ গ্রামে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে এ হামলা হয়।
বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাক্সিম প্রেভো বলেন, হামলার শিকারদের মধ্যে তাঁর দেশের কনসাল জেনারেল, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের কূটনীতিক এবং ক্যাথলিক ধর্মীয় প্রতিনিধিরা রয়েছেন। বেলজিয়ামের একটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলায় ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলীয় শহর অলনোয়া-এমেরির ৭৮ বছর বয়সী মেয়র বার্নার বোদু আহত হন। ফরাসি ত্রিরঙা ব্যান্ড পরে থাকা বোদুকে বসতি স্থাপনকারীরা লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। তিনি আহত হলেও হাসপাতালে যেতে হয়নি। তাইবেহর সঙ্গে শহরটির একটি ভ্রাতৃত্ব চুক্তি সই করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন; তাঁর স্ত্রী এবং ক্যামব্রের আর্চবিশপও হুমকির মুখে পড়েন।
এর আগে পাহাড়ের নিচের ঢালে জলপাই কুড়াতে থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপরও হামলা চালান বসতি স্থাপনকারীরা। সত্তরোর্ধ্ব এক ফিলিস্তিনি নারীকে তাঁরা লাথি মারেন ও গালাগাল দেন; এক ব্যক্তির মাথার ক্ষতে ছ’টি সেলাই পড়ে। তাঁরা কুড়ানো জলপাইও নিয়ে যায়।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘ইয়েশ দিন’-এর হিসাবে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জলপাই সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে ১৭০টিরও বেশি হামলা হয়েছে; এতে অন্তত চারজন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। হাজার হাজার জলপাই গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগের দিন শুক্রবার আবু ফালাহ গ্রামে প্রায় ৮০ জন মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারী জলপাই কুড়াতে থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালান। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহত হন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর আলোকচিত্রী হাইডি লেভাইনও; বসতি স্থাপনকারীদের কেউ কেউ অস্ত্র বহন করছিলেন।
হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার। তিনি হামলাকারীদের ‘দাঙ্গাকারী’ বলে অভিহিত করেন এবং কূটনীতিকদের সফরটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় না করার বিষয়টি তুলে ধরেন। ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, তারা তদন্ত শুরু করেছে।
বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে আরও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে জোর দেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের উপ-প্রেসিডেন্ট হুসাইন আশ-শেখও হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ দাবি করেন।



