কুমিল্লায় ১৩ বছরের এক কিশোর হত্যার ঘটনায় মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, এই মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুলিশের হাতে এসেছে। তিনি জানান, রোববার থেকে পরবর্তী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩)। সে কুমিল্লার একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে পরিকল্পিতভাবে নির্জন জঙ্গলে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ফোনটি কেড়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজন কিশোর। গ্রেফতারদের মধ্যে একজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতিমের ব্যবহৃত ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
গত ২২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন কুমিল্লার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
সংবাদ সম্মেলনটি মূলত যুবদলকর্মী হত্যার একটি মামলার অগ্রগতি জানাতে ডাকা হয়েছিল। সেই সম্মেলনের শেষে সাংবাদিকেরা অপ্রতিম হত্যা মামলার অগ্রগতি জানতে চাইলে পুলিশ সুপার এ তথ্য দেন।



