দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নিজস্ব সংস্কৃতি বেশি করে চর্চা ও অন্বেষণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এই চর্চার মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা যাবে এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবিলা করা যাবে।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাউল সাধক লালন শাহের ১৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, গত ১৬–১৭ বছরে সূক্ষ্ম সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে দেশকে একটি একরঙা রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা হয়েছে। তবে তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা বাড়তে থাকায় জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সম্ভব হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বৈধতা হারানো সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে এবং বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লব ও ১৭৭৬ সালের আমেরিকান বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করেন।
লালনের মানবতাবাদী দর্শনের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, ইউরোপের মতো আনুষ্ঠানিক রেনেসাঁ বা শিল্পবিপ্লব বাংলাদেশে হয়নি; কিন্তু দেশের মাটি থেকেই লালন উঠে এসে একই রকম মানবতাবাদী দৃষ্টি তুলে ধরেছেন। 'সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে' গানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই লালন সামাজিক ও ধর্মীয় ভেদাভেদকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
সম্প্রতি ভারতে চলমান বিক্ষোভ নিয়ে সে দেশের এক মন্ত্রীর মন্তব্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বাংলাদেশের গণআন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করার সময় সঠিক তথ্য ব্যবহার করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ থেকে পরাজিত হয়ে যাঁরা পালিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে; ওই মন্ত্রীর মন্তব্য ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক কাজী জসিন এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির। পরে বাউল গানের আসরে গান পরিবেশন করেন শফি মণ্ডল, ডলি মণ্ডল ও আকাশ গায়েন প্রমুখ।



