সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ১১টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা সার্কেল, কালীগঞ্জ থানা, দেবহাটা থানা ও এসআরবি-৬-এর সদস্যরা যৌথভাবে অভিযানে অংশ নেন। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন এবং সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।

পুলিশ ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর শামীমের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর একটি ফোনালাপের অডিও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে ফজলুল হক আমিনী ফেসবুকে লাইভে এসে লোকজনকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান বলে অভিযোগ করেছে শামীমের পরিবার। এর কিছুক্ষণ পর কুলিয়া এলাকায় প্রথমে শামীমকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।

পুলিশের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রথম হামলার পর শামীমকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানেও রাত ৯টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় দফায় তাঁকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে রাত ১২টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শামীম মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

শামীম দেবহাটার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামছুর রহমানের ছেলে। বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। আমিনী স্থানীয় 'তাওহিদি জনতা' নামের একটি সংগঠনের নেতা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার পর পুলিশ পঞ্চম ও ষষ্ঠ আসামি মোক্তার হোসেন খান (৫৩) ও আসাদুল ইসলাম মোল্লাকে (৪৬) গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।