মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছেন, ২০৩০ সালে তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হলেই তিনি প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়বেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে মিসরীয় মিলিটারি একাডেমির একটি গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সিসি বলেন, “২০৩০ সালের আগের সময়টাই রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আমার মেয়াদের সমাপ্তি হবে, যদি আমি বেঁচে থাকি। এটি সম্পূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, এ নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।” তিনি আরও বলেন, মিসরের সংবিধান “হাত দেওয়া হবে না”।

মিসরের সংবিধান ২০১৯ সালে সংশোধন করে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার বছর থেকে বাড়িয়ে ছয় বছর করা হয় এবং সিসিকে আরেকবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে তিনি ছয় বছরের মেয়াদের জন্য পুনর্নির্বাচিত হন, যা ২০৩০ সালে শেষ হবে।

একই অনুষ্ঠানে সিসি সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মিসরের পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানান। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলার জবাবে সৌদি আরব সহায়তা চাইলে তা দিতে সংসদের অনুমোদন লাগবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, “আমি কারও সঙ্গে লড়াই বা কারও ওপর হামলার কথা বলছি না; আমি শুধু প্রতিরক্ষার কথা বলছি।”

সিসি বলেছেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় “যেকোনো ব্যবস্থা” নেবে মিসর। চলতি মাসের শুরুতে রিয়াদের বাদশাহ খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এরপর সৌদি আরবের একাধিক বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে।

সিসি ২০১৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাঁর শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের সমালোচনা করে। সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন।