আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বিশ্বে প্রায় ৮০ কোটি কর্মসংস্থানের ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠীর প্রেসিডেন্ট অজয় বাংলা। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান।

তিনি বলেন, এই সময়ে ১২০ কোটি তরুণ কর্মবাজারে ঢুকবেন, কিন্তু পূর্বাভাস অনুযায়ী চাকরি তৈরি হবে মাত্র প্রায় ৪০ কোটি। ‘একটি চাকরি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, একটি চাকরি মানে মর্যাদা’— বলেছেন তিনি।

অজয় বাংলা বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিশ্বব্যাংক যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখে ছিল, সেগুলো কমেনি। সংঘাত চলছে, সরকারগুলোর ব্যয় করার সুযোগ কমেছে, ঋণের বোঝা বেড়েছে এবং জ্বালানি থেকে সার— নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেশি।

তাঁর মতে, স্বল্প সম্পদ দিয়ে বেশি কাজ করানো ও বড় পরিসরে কর্মসংস্থান তৈরি— এই দুই চ্যালেঞ্জ মিলেই বিশ্বব্যাংক কাজ করছে। দেশ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে উন্নয়ন অর্থায়নের মডেল বদলাতে হবে; যেখানে প্রয়োজন ও ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, সেখানে সরকারি ও ছাড়ের অর্থায়ন জরুরি থাকবে, আর অর্থনীতি শক্তিশালী হলে বেসরকারি বিনিয়োগ ও বাজার সুবিধা বাড়বে।

বেসরকারি পুঁজি প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত বছর বিশ্বব্যাংক ১১ হাজার ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ সংস্থান করেছে; তাঁর কর্মপরিকল্পনা শুরুর আগে ২০২২ অর্থবছরে তা ছিল প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। নিজের ঋণসহ মোট অর্থায়ন ছাড়িয়েছে ২৩ হাজার কোটি ডলার।

নিম্ন ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই পুঁজি সংস্থান কয়েক গুণ বেড়েছে বলে জানান অজয় বাংলা। তিনি বলেন, ছয়টি বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক মিলে বিনিয়োগ মূল্যায়ন, নথিভুক্তি, প্যাকেজিং ও হস্তান্তরের সমন্বিত পদ্ধতি তৈরি করছে, যাতে একটি প্রকল্পের অর্থ অন্য বিনিয়োগকারীর হাতে গিয়ে নতুন প্রকল্পের জন্য পুঁজি খালি হয়।

‘কর্মসংস্থানের ঘাটতিটা একটা পূর্বাভাস মাত্র। এটাই আমাদের ভবিষ্যৎ হতে হবে না,’ বলেন তিনি।