চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমেছে। ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্টে বাংলাদেশ ইইউতে ১১ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক রপ্তানি করেছে; গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ১৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ইউরো। অর্থাৎ আয় কমেছে প্রায় ১৫৮ কোটি ইউরো।

একই সময়ে ইইউর সার্বিক পোশাক আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। মানে, ইউরোপীয় বাজার যতটা সংকুচিত হয়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে প্রায় তিন গুণ।

রপ্তানি কমায় ইইউর বাজারে বাংলাদেশের হিস্যাও কমেছে। গত বছরের জানুয়ারি–আগস্টে ইইউর মোট পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ ছিল প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ, চলতি বছর তা নেমে এসেছে প্রায় ১৯ দশমিক ৮ শতাংশে। উল্টো দিকে চীনের হিস্যা ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে।

ইইউর বাজারে বড় সরবরাহকারকদের মধ্যে চীনের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এই সময়ে তুরস্ক ও ভারতের রপ্তানিও কমেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিমাণের দিক থেকে রপ্তানি কমেছে সাড়ে ৪ শতাংশ, আর পোশাকের গড় দাম প্রতি কিলোগ্রামে ১৪ দশমিক ৮৭ ইউরো থেকে কমে ১৩ দশমিক ৭৬ ইউরো হয়েছে।

রপ্তানিকারকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাল্টা শুল্ক আরোপের পর চীনের পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক বেড়ে যায়। এরপর চীনারা ইইউর বাজারে কম দামে আগ্রাসী বিপণন শুরু করে, যাতে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা তীব্র প্রতিযোগিতায় পড়েন।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল প্রথম আলোকে বলেন, জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে ইইউর ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি পোশাক আমদানি বাড়িয়েছে, ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিও কিছুটা ইতিবাচক হয়েছে। কিন্তু চীন আগে থেকেই আগ্রাসী বিপণন করছিল, তাই বাজার পুনরুদ্ধারের সময় তাদের ব্যবসাই বেশি বেড়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির খুব বেশি অবনতি না হলে সামনের দিনে ইইউর বাজার আরেকটু ঘুরে দাঁড়াতে পারে; তবে পোশাকের তালিকায় বৈচিত্র্য ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা না বাড়ালে বড় উন্নতির সুযোগ নেই।