সরকারি সেবা পেতে টাকা না দিলে কোনো কাজ হয় না—এমন মত দিয়েছেন সেবাপ্রার্থীদের ৭৪ দশমিক ৬ শতাংশ। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে সংস্থাটি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

গবেষণায় ২০২৫ সালের ৮ থেকে ৩১ মে দেশের আটটি বিভাগের ৮,০৬৭টি পরিবার থেকে তথ্য নেওয়া হয়। ‘বাংলাদেশের প্রকৃত অর্থনীতির অবস্থা: দারিদ্র্যের পুনরাবির্ভাব ও টিকে থাকার সক্ষমতার গতিশীলতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ইংরেজিতে ‘স্টেট অব দ্য রিয়েল ইকোনমি: ডাইনামিকস অব রিভার্সালস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ বইটিও প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩২ হাজার ৬৮৫ টাকা এবং ব্যয় ৩২ হাজার ৬১৫ টাকা। মাস শেষে গড়ে উদ্বৃত্ত থাকে মাত্র ৭০ টাকা। মোট ব্যয়ের ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ চলে খাবারের পেছনে।

পিপিআরসির হিসাবে দেশে দারিদ্র্যের হার এখন ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ; ২০২২ সালের সরকারি জরিপে তা ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। দারিদ্র্যসীমার ওপরে থাকা আরও ১৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ পরিবার ঝুঁকিতে আছে, যাদের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি ১০ লাখ মানুষের সমান।

গবেষণায় দেখা যায়, স্বাস্থ্যসেবায় ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার হয়রানি ও অনানুষ্ঠানিক অর্থ আদায়ের মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে সেবা পেতে দেওয়া এসব অনানুষ্ঠানিক অর্থকে এক ধরনের ‘অনানুষ্ঠানিক কর’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, হয়রানিকে রাষ্ট্রীয় ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, একশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।