মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন হাতে অস্ত্র নিয়ে রাজধানীতে নিজে নেতৃত্ব দিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকার গেন্ডারিয়ার দয়াগঞ্জ ঘুঁটিঘর রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযানের একটি ভিডিও তাঁর ফেসবুক পেজে দেওয়া হয়েছিল, পরে তা সরিয়ে নেওয়া হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রী হাতে পিস্তল নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে ‘ধরো, ধরো’ বলে চিৎকার করছেন এবং তাঁর দেহরক্ষীরা মাদক বিক্রেতা হিসেবে সন্দেহভাজনদের ধাওয়া করছেন। পরে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভিডিওতে আটক এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, তিনি কিছুই করেননি। এ ছাড়া সশস্ত্র দেহরক্ষীদের একজন আটক এক ব্যক্তিকে লাথি মারতে দেখা যায়। ভিডিওটি নিয়ে মন্ত্রী ও পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁর ঢাকা-৬ আসনের বাসিন্দারা মাদক নিয়ে বারবার অভিযোগ করেছেন। তিনি দাবি করেন, পুলিশের সঙ্গে ‘৩০ থেকে ৪০টি সভা’র পরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, তিনি কোনো গুলি করেননি বা অস্ত্র দিয়ে কাউকে ভয় দেখাননি; তাঁর পিস্তলটি বৈধ এবং আত্মরক্ষার জন্য রাখা।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শরীফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি অস্ত্রটি সংগ্রহ করেন। তবে ভিডিওতে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ ও শিশুদের উপস্থিতিতে তিনি অস্ত্র হাতে ধরে আছেন।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান পুলিশ ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ নাকচ করে বলেন, গত ১১ অক্টোবর প্রায় ৩০০ পুলিশ সদস্য নিয়ে ডিবি ও বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) যুক্ত একটি বড় অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁরা নিয়মিত প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে অভিযান ও তার ফলাফল জানিয়ে আসছেন বলেও জানান তিনি।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া প্রতিমন্ত্রীর বৈধ অস্ত্রটি এভাবে প্রদর্শন করাকে বেআইনি বলে আখ্যা দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের অস্ত্র নীতিমালা অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র বহন করা গেলেও তা এমনভাবে প্রদর্শন করা যায় না, যা অন্য মানুষের ভয় বা বিরক্তির কারণ হয়।



