ফেসবুকে করা এক মন্তব্যের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রীলঙ্কার অভিবাসী শ্রমিক আনোজান শিবরাজার সাজা বাতিল করেছেন সৌদি আরবের সর্বোচ্চ আদালত। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী অরুণ হেমচন্দ্র নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।

রায়টি গত ১৩ অক্টোবর দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হেমচন্দ্র। দুদেশের কর্তৃপক্ষ, কূটনীতিক ও আইনজীবীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য তিনি ধন্যবাদও জানান। শ্রীলঙ্কার আইনপ্রণেতা ফাইজার মুস্তাফা বিবিসি সিংহলাকে রায় বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায়টি পর্যালোচনা করছেন।

শিবরাজা শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চলীয় আম্পারা জেলার বাসিন্দা। গত জুনের শেষ দিকে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের অনুসরণ করা একটি কুকুরকে এক মুসলিম তরুণের লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এ নিয়ে ধর্মীয় বিতর্ক শুরু হয়। ওই বিতর্কে হিন্দু দেবতা নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের জবাবে শিবরাজা তামিল ভাষায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে মন্তব্য করেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মন্তব্যটি মুছে দিয়ে ক্ষমা চেয়ে ভিডিও প্রকাশ করেন। তবু মন্তব্যটির স্ক্রিনশট তাঁর নিয়োগকর্তা ও সৌদি কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে যায়। এরপর গত জুলাই মাসে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সৌদি আরবের আল-আহসা ফৌজদারি আদালত তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল—আনুমানিক আট লাখ মার্কিন ডলার—জরিমানা করেছিল। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল আদালত শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীলঙ্কার সরকার কূটনৈতিক ও আইনি তৎপরতা শুরু করে এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধিদল রিয়াদে পাঠায়। শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিশানায়েকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এতে শিবরাজা ও তাঁর পরিবার এবং মামলাটি নিয়ে উদ্বেগে থাকা শ্রীলঙ্কার মানুষের স্বস্তি এসেছে। রাষ্ট্রপতি সৌদি সরকার, কূটনীতিক, কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের ধন্যবাদ জানান।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও শিবরাজাকে বাঁচাতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সৌদি আরববিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক জোয়ি শিয়া বলেছেন, মতপ্রকাশের কারণে অভিবাসী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির এ ধরনের আইন ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।

মামলাটি এখন নিম্ন আদালতে ফিরে যাচ্ছে; সেখানে নতুন করে শুনানি হতে পারে। এরপর কী হবে, শিবরাজা আটকে থাকবেন কি না বা তাঁকে নতুন কোনো সাজা দেওয়া হবে কি না—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।