ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বা রেসিডেন্সি পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় যে জরিমানা জমেছে, তার ৭৫ শতাংশ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অঞ্চলটির সরকার। ফলে ওই বিদেশি নাগরিকদের মোট জরিমানার মাত্র ২৫ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ইরাকে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এই তথ্য জানিয়েছে।

দূতাবাসের বরাত অনুযায়ী, কুর্দিস্তান অঞ্চলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেবার আহমেদের নির্দেশে আদেশ নম্বর ৩২৫৫৭-এর আওতায় এই ছাড় দেওয়া হচ্ছে। সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে গত ১৫ অক্টোবর।

ঘোষণায় বলা হয়েছে, যেসব বিদেশি নাগরিক বৈধ ভিসা নিয়ে কুর্দিস্তান অঞ্চলে প্রবেশ করেছেন, কিন্তু কোনো কারণে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পারেননি বা ভিসাকে রেসিডেন্সি পারমিটে রূপান্তর করতে পারেননি, তাঁরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন। একইভাবে যাঁদের রেসিডেন্সি পারমিটের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে, তাঁরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই ছাড় পাবেন।

ছাড়টি প্রযোজ্য হবে বিলম্বজনিত জরিমানার ওপর, যা কুর্দিস্তান অঞ্চলের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনায় নির্ধারিত। অর্থাৎ মোট বকেয়া জরিমানার চার ভাগের এক ভাগ পরিশোধ করলেই চলবে।

ছাড় পেতে আগ্রহীদের ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কুর্দিস্তান অঞ্চলের যেকোনো একটি রেসিডেন্সি অধিদপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে তাঁরা এই সুবিধা নিতে পারবেন।

দূতাবাসের পরামর্শ, ছাড় নিতে আগ্রহীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে যেতে হবে এবং প্রযোজ্য নিয়ম ও শর্ত আগে জেনে নিতে হবে। শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরই যাচাই করবে।

কুর্দিস্তান অঞ্চল ইরাকের উত্তরে এরবিল, সুলাইমানিয়া ও দুহোকসহ আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়। সেখানে বসবাস ও কাজ করা বিদেশি নাগরিকদের ভিসা এবং রেসিডেন্সি সংক্রান্ত বিষয় দেখে অঞ্চলটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুর্দিস্তানে থাকা অনেক বাংলাদেশি ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা রেসিডেন্সি পারমিট নবায়নে দেরি হওয়ার কারণে বকেয়া জরিমানার মুখে পড়েন। এ ধরনের জরিমানা সময়ের সঙ্গে জমতে থাকে, ফলে অনেকের জন্য তা বড় অঙ্কে দাঁড়ায়।

এই ছাড় সেই বোঝা অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে। তবে জরিমানায় ছাড় মানে অভিবাসনসংক্রান্ত অনিয়মের সব দায় শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বৈধ অবস্থা অর্জনের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।

এখনো যা স্পষ্ট নয়, তার মধ্যে আছে এই সুবিধায় কতজন বাংলাদেশি উপকৃত হবেন এবং মোট কত টাকার জরিমানা মওকুফ হবে। ঘোষণায় শুধু বৈধ ভিসায় প্রবেশ করা ব্যক্তিদের কথা বলা হয়েছে; অবৈধভাবে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের বিষয়ে আলাদা কিছু উল্লেখ নেই। আবেদন অনলাইনে বা ডাকযোগে করা যাবে কি না, সে বিষয়েও কিছু বলা হয়নি।

নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর কী হবে, সে বিষয়েও ঘোষণায় বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যোগাযোগ করলে ছাড় পাওয়া যাবে—এই কথাই স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

ইরাকে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য কুর্দিস্তানের এই সিদ্ধান্ত স্বস্তির সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যাঁদের ভিসা বা রেসিডেন্সি পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হচ্ছিল, তাঁরা শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ৭৫ শতাংশ ছাড় পেতে পারেন।

এখন করণীয় হলো নিজেদের ভিসা ও রেসিডেন্সি পারমিটের বর্তমান অবস্থা যাচাই করা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা এবং সময় শেষ হওয়ার আগেই নিকটস্থ রেসিডেন্সি অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রযোজ্য শর্ত ও ফি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তবেই অর্থ পরিশোধ করা উচিত।