সাভারের আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ডেকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে। কারখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কাজ করার সময় এক পুরুষ কর্মকর্তা ওই শ্রমিকের দিকে বারবার তেড়ে যাচ্ছেন এবং তার মেশিনে আঘাত করছেন। একপর্যায়ে শ্রমিকটি মেশিনে বসা অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।
নিহত শ্রমিকের নাম সুমি আক্তার (ওরফে মিশু)। তিনি কারখানাটির সুইং অপারেটর ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাঁর গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায়। স্বামী সাজ্জাদ হোসেন ও দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি আশুলিয়ার কাঠগড়া নয়াপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
কারখানার সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, বিকেল ৫টা ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে এক কর্মকর্তা সুমির দিকে তেড়ে আসেন এবং কয়েক দফায় মেশিনে আঘাত ও উদ্ধত আচরণ করেন। একপর্যায়ে ৫টা ১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডে সুমি মেশিনে বসা অবস্থায় মেঝেতে পড়ে যান। পরে ৫টা ৪ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে তাঁকে স্ট্রেচারে তোলা হয়। তবে ফুটেজ থেকে এটা স্পষ্ট নয় যে কেন তিনি পড়ে যান অথবা ওই কর্মকর্তার আচরণ তাঁর মৃত্যুর কারণ ছিল কি না।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু সিসিটিভি ফুটেজ, নিহতের স্বজন ও সহকর্মীদের বরাত দিয়ে অভিযোগ করেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কারখানায় উৎপাদন চলছিল এবং অসুস্থ অবস্থায় সুমিকে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ছুটি চেয়েও পাননি সুমি; ছুটি না দিয়ে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। মৃত্যুর দায় কারখানা কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারবে না এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
কারখানা কর্তৃপক্ষ অবশ্য ছুটি চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ডেকো গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন, এইচআর অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স) সালাউদ্দিন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সংশ্লিষ্ট লাইন সুপারভাইজারকে শোকজ করা হয়েছে এবং তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার হারুন-অর-রশীদ বলেন, মৃত অবস্থায় ওই শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হয়। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, নিহতের স্বামী লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটিতে এ পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানান তিনি।
স্বামী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সুমি ১৬ অক্টোবর দুপুরে খাবার খেতে বাসায় ফিরেছিলেন এবং সুস্থ ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ফুটেজে যা দেখা যাচ্ছে, সেটা একধরনের নির্যাতন। শারীরিকভাবে আঘাত করার পাশাপাশি তিনি যা যা করে নির্যাতন করা সম্ভব, সবই করেছেন।’ তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান।



