চলতি অক্টোবরের প্রথম ১৬ দিনেই ডেঙ্গুতে অন্তত ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮ হাজার ৮২০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে সাতজনের মৃত্যু হয় এবং নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হন এক হাজার ৮৭২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে শনিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ১০ হাজার ৩১২ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ চার হাজার ১৯৯ জন, বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন পাঁচ হাজার ৭৭১ জন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে মোট ৩৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সংস্থার মাসভিত্তিক হিসাবে, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয় এবং আক্রান্ত হন ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন। আগস্টে মৃত্যু হয় ৪৩ জনের, জুলাইয়ে ৩৬ জনের, জুনে ১৩ জনের এবং মে মাসে একজনের। হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা আগস্টে ছিল ২০ হাজার ৫৩৬ এবং জুনে ২০ হাজার ৯০৭।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেরিতে হাসপাতালে আসা, প্রাথমিকভাবে রোগ শনাক্ত না হওয়া এবং কার্যকর তিন স্তরের ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা না থাকা মৃত্যু বাড়াচ্ছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক একটি মৃত্যু-পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পর্যালোচনা করা ১১৯ জন রোগীর এক-তৃতীয়াংশের বেশি হাসপাতালে ভর্তির এক দিনের মধ্যে মারা গেছেন।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেছেন, দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে জটিলতা বাড়তে পারে। তিনি শিশু এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, যকৃত ও কিডনি রোগ বা ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হালকা উপসর্গও অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন। জ্বর হলে নিজে নিজে ব্যথানাশক বা অন্য ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হুসাইন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত তিন স্তরের সমন্বিত ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে বড় হাসপাতালের ওপর চাপ কমে এবং গুরুতর রোগীরা দ্রুত বিশেষায়িত চিকিৎসা পান।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেছেন, নভেম্বরে ডেঙ্গু সংক্রমণ কিছুটা কমতে পারে; তবে ডিসেম্বরের আগে উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা কম। বৃষ্টি চলতে থাকলে সংক্রমণ দীর্ঘায়িত হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।



