রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন সড়কে আগামী বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হচ্ছে।

সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি বুধবার বিকেলে এক যৌথ বিবৃতিতে এই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।

বিবৃতিতে সাজেকে অবস্থানরত সব পর্যটককে বুধবারের মধ্যেই নিরাপদে ঘরে ফেরার অনুরোধ করা হয়েছে।

সংগঠন দুটির পক্ষে বিবৃতিতে সই করেছেন কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও গণ-অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা।

প্রথম আলো ও বাংলা ট্রিবিউনের স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাবি পূরণ না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এটি চলতি মাসে সাজেক সড়কে তৃতীয় দফার অবরোধ। এর আগে ১১ অক্টোবর সংগঠন দুটি অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ডাকে।

প্রশাসনের আশ্বাসে ওই কর্মসূচি ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত হয়। এরপর ১৫ অক্টোবর সকাল ছয়টা থেকে দ্বিতীয় দফায় অবরোধ শুরু হয়।

দ্বিতীয় দফায় বাঘাইহাটের ১০ নম্বর এলাকা, গঙ্গারাম সেতু ও মাচলঙের ১৪ কিলোমিটার এলাকাসহ কয়েকটি স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে সড়ক আটকে দেওয়া হয়।

এতে সাজেকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরে বাঘাইহাট ও মাচলং বাজারের পূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত রাখা হয়।

সংগঠন দুটির দাবি তিন দফার। এর একটি হলো সাজেক এলাকা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই সদস্যরা সাজেকে তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

প্রশাসনকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা ফের রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংগঠন দুটি জানিয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

ইউপিডিএফের চাপে ওই দুই সংগঠন অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

সংগঠন দুটি জানিয়েছে, অবরোধের সময় ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যান, সংবাদপত্রবাহী গাড়ি এবং সাংবাদিকদের যানবাহন আওতামুক্ত থাকবে।

সাজেক রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত হলেও পর্যটকদের বড় অংশ খাগড়াছড়ি হয়ে সেখানে যাতায়াত করেন।

পাহাড়ি এই পর্যটনকেন্দ্রটি বছরের ব্যস্ত মৌসুমে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়ে থাকে। সড়ক বন্ধ হলে রিসোর্ট, জিপ ও মাহিন্দ্রচালক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন।

এখনো জানা যায়নি, জেলা প্রশাসন নতুন করে সাজেক ভ্রমণ বন্ধের নির্দেশনা দেবে কি না এবং বর্তমানে সেখানে কতজন পর্যটক আছেন।

অবরোধকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের নতুন আলোচনা হয়েছে কি না, তিন দফা দাবির বাকি দুটি কী এবং অবরোধ কত দিন চলবে, তাও নিশ্চিত নয়।

সামনে যা ঘটতে পারে: বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সড়ক অবরোধ শুরু হলে সাজেকগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

প্রশাসন নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনা দিতে পারে। ভ্রমণ পরিকল্পনা করা পর্যটকদের যাত্রা বাতিল বা পিছিয়ে দিতে হতে পারে।

স্থানীয়দের জরুরি যাতায়াত ও পণ্য সরবরাহ কেমন থাকবে, সেটিও নজরে রাখতে হবে।