এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাস করেছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী। শনিবার, ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। জিপিএ–৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছরের তুলনায় পাসের হার এবং সর্বোচ্চ ফল পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা—দুটিই কমেছে। ফলে উচ্চমাধ্যমিকের এই ফলের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরবর্তী শিক্ষাজীবনের প্রশ্নও সামনে এসেছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে একযোগে ফল পাওয়া যায়। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এই ফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম আলো ও ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে পাসের হার, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী এবং জিপিএ–৫-এর মূল সংখ্যাগুলো একই পাওয়া গেছে।
গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সেখান থেকে এবার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। বাসসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জিপিএ–৫ পেয়েছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন। এবার সেই সংখ্যা ২৯ হাজার ১৩ জন কম। পাসের হারের পরিবর্তন আর জিপিএ–৫ কমার হিসাব দুটি আলাদা সূচক; একটি সামগ্রিক উত্তীর্ণের চিত্র দেয়, অন্যটি সর্বোচ্চ ফল পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা জানায়।
ঢাকা ট্রিবিউনের বোর্ডভিত্তিক হিসাবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হার বরিশালে, ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। চট্টগ্রামে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ এবং ময়মনসিংহে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। মাদ্রাসা বোর্ডে ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ ও কারিগরি বোর্ডে ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এই পার্থক্য থেকে বোর্ডগুলোর ফল একরকম হয়নি বোঝা গেলেও, কেন এমন হয়েছে তা শুধু সামগ্রিক হার দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলেও বড় ব্যবধান রয়েছে। বাসস জানিয়েছে, ১৩৯টি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে ২৯৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ উত্তীর্ণ হয়নি; গত বছরের চেয়ে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯১টি বেশি। দেশের বাইরে আটটি কেন্দ্রে ২৩০ জনের মধ্যে ২০৯ জন পাস করেছে। সেখানে পাসের হার ৯০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে আলাদাভাবে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ।
ফল নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী সন্তুষ্ট নন বলে বিডি২৪লাইভের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার পথ খুঁজতে মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড কাজ করছে। ভবিষ্যতে ফল ভালো করতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি। তবে কোন বিষয়ে, কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন ধরনের শিক্ষার্থীদের ফল বেশি খারাপ হয়েছে এবং তার পেছনে কী কারণ কাজ করেছে—এসবের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ যাচাই করা প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি। তাই ফল কমার কোনো একক কারণকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বলা যাচ্ছে না।
এখন ফল নিয়ে সংশয় থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য পরবর্তী ধাপ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১ থেকে ৭ নভেম্বর অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদনপদ্ধতি ও বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে ফল সংগ্রহ করতে পারবে। আবেদন করার আগে বোর্ডের নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেখে নেওয়া প্রয়োজন, কারণ ফল প্রকাশের সংবাদ নিজে আবেদনপদ্ধতির বিকল্প নয়।
এ বছরের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই। ফল প্রকাশের পর সামনে রয়েছে পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া এবং ফলের দুর্বলতা চিহ্নিত করার কাজ। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে উন্নতির উদ্যোগের কথা থাকলেও, সেই উদ্যোগের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা বা ফল উন্নয়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো স্পষ্ট নয়। বোর্ডগুলোর পরবর্তী নির্দেশনা এবং বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা আরও পরিষ্কার তথ্য পাবেন।



