মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের (এমআরটি লাইন-৬) সম্প্রসারিত অংশে যাত্রী চলাচল আগামী বছর শুরু করার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পসূত্র অনুযায়ী, এই অংশের ভৌতকাজ ৮৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে এবং কমলাপুর স্টেশনের কাঠামোগত নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্পের পরিচালক (অবসরপ্রাপ্ত) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল ওহাব জানান, ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার উড়ালপথ বা ভায়াডাক্টের নির্মাণ শেষ হয়েছে এবং রেললাইন বসানোর জন্য তা চুক্তিপ্যাকেজ-৭-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কমলাপুর স্টেশনে যান্ত্রিক, বৈদ্যুতিক ও প্লাম্বিং (এমইপি) কাজ চলছে; এসব কাজ আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। প্রায় ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লাইনে মোট ১৭টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে মিরপুর-১০, আগারগাঁও, ফার্মগেট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম।

প্রথম আলো এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী জানুয়ারিতে যাত্রীবিহীন পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হবে এবং এপ্রিলের দিকে যাত্রী নিয়ে ট্রেন কমলাপুর পর্যন্ত যাবে। প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, ‘আগামী বছর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে যাত্রী নিয়ে মেট্রোরেল কমলাপুরে যাবে—এমন প্রস্তুতি নিয়েই আমরা এগোচ্ছি।’

রেললাইন, সংকেতব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায়, প্ল্যাটফর্মের স্বয়ংক্রিয় দরজা ও লিফট-এসকেলেটরসহ সাত ধরনের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কাজ এখনো বাকি। এসব কাজের যন্ত্রপাতি আসবে জাপান থেকে। তবে সাম্প্রতিক এক অগ্রগতি প্রতিবেদনে বাণিজ্যিক চলাচল আগামী জুলাইয়ে শুরু হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে; ফলে চূড়ান্ত সময়সূচি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ঢাকার প্রথম মেট্রোরেলের উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশ চালু হয় ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর; আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশ চালু হয় ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর। বর্তমানে প্রতিদিন চার লাখের বেশি মানুষ মেট্রোরেলে যাতায়াত করেন; কমলাপুর পর্যন্ত চালু হলে দৈনিক যাত্রীসংখ্যা ছয় লাখ ৭৭ হাজারে দাঁড়াতে পারে।

২০১২ সালে অনুমোদনের সময় মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় ছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা; বর্তমানে তা বেড়ে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা হয়েছে। জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা থেকে ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে।

কমলাপুর রেলস্টেশনের দূরপাল্লার ট্রেনযাত্রী ও আশপাশের অফিস-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বহু মানুষ এই সম্প্রসারণের সুবিধা পাবেন। তাঁদের অনেককেই এখন মতিঝিলে নেমে রিকশা বা বাসে ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।