ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫১২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দৈনিক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। হিসাবের সময় ধরা হয়েছে বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন চারজনের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে। বাকি দুজনের একজন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং একজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাসিন্দা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩৬৮ জনের। মৃতদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ নারী ও ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ।

নতুন রোগীদের বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৫০৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে ২৯৪, বরিশালে ২৩১, খুলনায় ২০৬, রাজশাহীতে ১৬২, ময়মনসিংহে ৬০, রংপুরে ৪৪ এবং সিলেট বিভাগে ৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ১১১ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৬ হাজার ২৩ জন।

ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত একটি ভাইরাস জ্বর। এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবোপিকটাস মশা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। বর্ষা মৌসুমে এবং বর্ষা শেষের কয়েক সপ্তাহে দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ে, কারণ তখন ঘরের ভেতরে ও বাইরে, ছাদে, ফুলের টবে এবং নির্মাণাধীন ভবনে পানি জমে থাকে। এসব জায়গায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং মশার কামড় থেকে বাঁচার ব্যবস্থা নেওয়াই সংক্রমণ কমানোর প্রধান উপায় হিসেবে বলা হয়।

প্রতিদিনের বিজ্ঞপ্তি বলছে, বুধবারের আগের দিনগুলোতেও এক হাজারের বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত কয়েক দিনে প্রতিদিন ১ হাজার ৩০০-এর বেশি থেকে ২ হাজার ৮৮ জন পর্যন্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে চার থেকে সাতজনের। অর্থাৎ সংক্রমণ এখনো থামেনি; দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপও বজায় আছে।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে কোন ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাস বেশি ছড়াচ্ছে, আক্রান্তদের মধ্যে কতজন গুরুতর অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন বা কোন কোন জেলায় মৃত্যু বেশি হচ্ছে—এসব বিস্তারিত নেই। বিভাগভিত্তিক মোট মৃত্যুর পূর্ণ বিভাজনও প্রকাশ করা হয়নি। এসব তথ্য থাকলে বোঝা যেত সংক্রমণের ধরন কোথায় বদলাচ্ছে এবং হাসপাতালগুলোকে কোথায় বেশি প্রস্তুতি নিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিদিন সকালে আগের ২৪ ঘণ্টার হিসাব প্রকাশ করে থাকে; শুক্রবারও নতুন বিজ্ঞপ্তি আসার কথা। ডেঙ্গু সন্দেহ হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, পর্যাপ্ত তরল খাওয়া এবং ব্যথানাশক হিসেবে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ওষুধ নিজে নিজে না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। জ্বরের সঙ্গে শরীর ও মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা বা চামড়ায় লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া উচিত।

এদিকে মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশনগুলোর অভিযান ও সচেতনতা কার্যক্রম চলছে। তবে বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সংক্রমণ কমানো কঠিন হবে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে রোগীর সংখ্যা কমে আসে কি না, তা বোঝা যাবে প্রতিদিনের বিজ্ঞপ্তির হিসাবে।