ব্রাজিলের আমাজন বনাঞ্চলে বন উজাড়ের হার প্রায় চার দশকের সর্বনিম্নে নেমেছে। সরকারি হিসাবে, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে ৩,৩৩৫ বর্গকিলোমিটার বন সাফ হয়েছে—আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ কম এবং ১৯৮৮ সালে হিসাব শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বনিম্ন।
ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইনপের ‘প্রোডেস’ উপগ্রহ ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগের সর্বনিম্ন রেকর্ডটিও এ বছর প্রায় ১,২৩৬ বর্গকিলোমিটার পিছিয়ে গেছে। ২০২২ সালের তুলনায় চার বছরে বন উজাড় কমেছে প্রায় ৭১ দশমিক ২ শতাংশ।
রাজধানী ব্রাসিলিয়ার এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী জোয়াও পাওলো কাপোবিয়াঙ্কো এই পতনকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে অভিহিত করেন। প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে অবৈধ বন উজাড় শূন্যে নামানোর লক্ষ্য তাঁর সরকারের রয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় বনাঞ্চলের প্রায় ৬০ শতাংশ ব্রাজিলে অবস্থিত, যা গ্রিনহাউস গ্যাস শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তথ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নজরদারি বাড়ানো ও অবৈধ কাঠ কাটার শাস্তি কঠোর করার ফলে এই অগ্রগতি এসেছে।
শুধু আমাজন নয়, এর ঠিক দক্ষিণে বিস্তৃত ‘সেরাদো’ তৃণভূমিতেও বন উজাড় কমে ২০০১ সালে রেকর্ড শুরু হওয়ার পর সর্বনিম্নে নেমেছে—আগস্ট ২০২৫ থেকে জুলাই ২০২৬-এ প্রায় ৫ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার।
তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বে লুলার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিনেটর ফ্লোভিও বোলসোনারো—আমাজনের ভবিষ্যৎ এই নির্বাচনের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পরিবেশ সংগঠন ক্লাইমেট অবজারভেটরির নির্বাহী সম্পাদক মার্সিও আস্ত্রিনি বলেন, ব্রাজিলের বন ধ্বংস বন্ধ করা সম্পূর্ণভাবে সম্ভব—তবে সবকিছু নির্বাচনের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে।



