মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কী পড়বে তা বিশ্লেষণ করতেই এই ৬০ দিন; রাশিয়ার জ্বালানি থেকে ভারতের রাতারাতি সরে আসা কঠিন।
রাশিয়ার জ্বালানি তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর আরোপের প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক ৬০ দিনের জন্য স্থগিত রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সময়টিতে এসব পদক্ষেপের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে চান তিনি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) উজবেকিস্তান ও ভারত সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
জুগান্তর জানিয়েছে, শুক্রবার ট্রাম্প 'লিন্ডসে গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট'-এর আওতায় প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেন। এই আইনের আওতায় রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ছিল; এসব দেশের মধ্যে ভারত ও চীনও রয়েছে।
রুবিও বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থাগুলো শুধু রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; ভারতসহ কয়েকটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত। তাই এসব পদক্ষেপ বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা বিশ্লেষণ করতে ট্রাম্প সময় নিতে চান।
বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামে প্রভাব ফেলছে এমন কয়েকটি সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন রুবিও। ইউএনবির খবর অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ, সৌদি আরবে হুতিদের হামলা এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের কথা বলেন।
ভারত প্রসঙ্গে রুবিও বলেন, দেশটি জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করলেও এখনো রাশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে। এক দিনের মধ্যে এই নির্ভরতা থেকে সরে আসা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ও অংশীদার বলে উল্লেখ করেন রুবিও।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সমুদ্রপথে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানি নিষিদ্ধ করে এবং জি-৭ মূল্যসীমা নির্ধারণ করে। এরপর রাশিয়া এশিয়ার বাজারে তেল বিক্রি বাড়ায়। যুদ্ধের আগে ভারতের মোট তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ২ শতাংশেরও কম ছিল; পরে তা কখনো কখনো ৪০ থেকে ৫০ শতাংশে ওঠে। জুগান্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ভারত প্রতিদিন প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল কিনেছে, যা তার মোট আমদানির প্রায় ৩৫ শতাংশ।
নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে জুগান্তর লিখেছে, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার জানিয়েছে নয়াদিল্লি। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছিল, বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে তারা।