ইন্দোনেশিয়ার ছড়িয়ে পড়া দাবানল থেকে গত কয়েক সপ্তাহে ডজনখানেকের বেশি বিরল বোর্নিও অরেঞ্জওটান উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংরক্ষণ সংস্থাগুলো।

দাবানলের সৃষ্ট ধোঁয়াশায় কয়েক মাস ধরে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও পূর্ব তিমুরের বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে আছে। এতে স্কুল বন্ধ হয়েছে, মানুষের পাশাপাশি প্রাণীদেরও শ্বাসকষ্ট বেড়েছে এবং বাইরে চলাচলে বিধিনিষেধ পড়েছে।

রোববারও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক এলাকার বায়ুর মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ থেকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে ছিল। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ু মান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের তালিকায় সিঙ্গাপুর ও কুয়ালালামপুর আবারও বিশ্বের দূষিত বড় শহরগুলোর শীর্ষ পাঁচে উঠেছে। এল নিনোর প্রভাবে বোর্নিও ও সুমাত্রার দাবানল থেকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে।

পশ্চিম ক্যালিমান্টানের সংরক্ষণ সংস্থা ও ইন্দোনেশীয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ওয়াইআইএআরআই জানিয়েছে, ৬ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ওই প্রদেশ থেকে ৫১টি অরেঞ্জওটান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্যালিমান্টান থেকে উদ্ধারের সংখ্যা ৯৬ পর্যন্ত হতে পারে।

সবশেষে শনিবার বোর্নিও দ্বীপের মধ্য ক্যালিমান্টানে হাম্পাঙ্গেন গ্রাম থেকে ২০ বছরের একটি পুরুষ অরেঞ্জওটানকে উদ্ধার করে তিনটি সংরক্ষণ সংস্থা। অরেঞ্জওটানটিকে ঘুম পাড়ানোর পর চিকিৎসা পরীক্ষা শেষে তাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে ধোঁয়াশার কারণে দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় বিমানবন্দরে বিলম্ব, বিঘ্ন ও ফ্লাইট বাতিল হতে পারে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।