মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচকদের জোট 'নো কিংস' নেটওয়ার্ক শনিবার (১৭ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ভোটারদের আগাম ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সমাবেশ ও কর্মসূচি পালন করেছে। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে 'নো কিংস: ভোট আর্লি'।

আয়োজকদের হিসাবে দিনটিতে সারা দেশে তিন হাজারের বেশি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ছিল। 'নো কিংস' নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ২০২৫ সাল থেকে চলা এই আন্দোলনের এটিই চতুর্থ ধাপ। এবার সরাসরি বিক্ষোভের বদলে আগাম ভোটদানকে উৎসাহিত করাই ছিল মূল লক্ষ্য।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগাম ভোটে সবাই অংশ নিলে ভোটগ্রহণকর্মীদের ওপর চাপ কমবে এবং ভোটাররা দীর্ঘ লাইন এড়াতে পারবেন। পাশাপাশি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা বা বিতর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

সমাবেশগুলোকে দলীয় পরিচয়মুক্ত বলা হয়েছে। ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়ালে শতাধিক মানুষ সমবেত হন এবং 'ভোট ইন আর্লি' লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে তোলেন। আটলান্টার সমাবেশে সিটি কাউন্সিলর মাইকেল জুলিয়ান বন্ড উপস্থিত জনতাকে অন্যদেরও ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাতে বলেন।

প্রসঙ্গত, ডাকযোগে ভোটদান নিয়ে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ পোষণ করে আসছেন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেছেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির কারণে তাঁর পরাজয় হয়েছিল। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটদানে কড়াকড়ি আরোপের চেষ্টাও করা হয়েছে।

সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে; অভিযোগ, ফেডারেল সরকার যাদের 'সম্ভাব্য' অ-নাগরিক বলে চিহ্নিত করেছে, তাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার আগে ডাকযোগে আসা ব্যালট গণনায় বাধা দিতে হবে। নির্বাচনের আগে ব্যালট বা সরঞ্জাম জব্দ করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সিনেটরও।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের জরিপে দেখা গেছে, আগাম ভোটদানে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক বেশি। কিছু জরিপে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে পারে, অন্যদিকে সিনেটে লড়াই বেশ কড়া।