উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে শনিবার সন্ধ্যায় পদদলিত হয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত ২৫ জন। বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটির ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
গত শনিবার সন্ধ্যা পৌনে আটটার দিকে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে ভয়াবহ পদদলনের ঘটনা ঘটে। আকস্মিক বৃষ্টির মধ্যে হাজারো মানুষের ভিড়ে সরু গলি ও অস্থায়ী সিঁড়িতে হুড়োহুড়ি লেগে অনেকে একে অন্যের ওপর পড়ে যান। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ২৫ জন।
মৃতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি। মুখ্যমন্ত্রীর বরাত অনুযায়ী, নিহতদের একজন সাত বছরের শিশুও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল, পরে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। আহতদের কলকাতা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে; কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
বৃষ্টির কারণে মণ্ডপের ভেতরে আটকে পড়া দর্শনার্থীরা বাইরে বেরোতে না পেরে এবং বাইরের ভিড় ভেতরে ঢুকতে চাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ অবস্থাকে ‘প্রেশার কুকার এফেক্ট’ বলে বর্ণনা করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ঘোষণা ও হুইসেল বাজানোর পরেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সরকার এ ঘটনার দায় নেবে এবং হাইকোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটিতে কলকাতা পুলিশের কেউ থাকবে না, যাতে পুলিশ ও দমকল বিভাগের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা যায়।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিহত প্রতিটি পরিবারকে ২৫ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং তিনি নিজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চেক হস্তান্তর করবেন। পুলিশ এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে; তাদের মধ্যে পুজো কমিটির সম্পাদক ও সহসভাপতিসহ বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীরা রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভিড় নিয়ন্ত্রণে গাফিলতির বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘটনার শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর দপ্তর জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ ও আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে সহায়তা দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।
কলকাতায় এবারের দুর্গাপূজায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার মণ্ডপ বসেছে। পদদলনের পর কয়েকটি ব্যস্ত মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এ ঘটনার শিক্ষা নিয়ে মণ্ডপে ভিড় ব্যবস্থাপনার নতুন নির্দেশিকা জারি করা হবে এবং ভিআইপিদের জন্য আলাদা লাইন থাকবে না।
ভারতে বড় ধর্মীয় ও জনসমাবেশে পদদলনের ঘটনা নতুন নয়। গত বছর কুম্ভমেলায় পদদলিত হয়ে ৩০ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে উত্তরপ্রদেশের একটি হিন্দু ধর্মীয় সমাবেশে পদদলনে ১২১ জন নিহত হন।