নৌযানে সংযুক্ত ‘ট্রল ডোর, ডেরিক ও উইংস’-এর সহায়তায় ভাসান বা বেহুন্দি জাল দিয়ে মাছ ধরতে ১৫ জন নৌযান মালিককে বাধা না দেওয়ার যে আদেশ হাইকোর্ট দিয়েছিলেন, তা স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে নিষিদ্ধ সময়ে এসব জাল দিয়ে মাছ ধরার সুযোগ আর থাকছে না।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ তিনজনের পক্ষে করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।

রিটে পরিদর্শন সনদ ও মাছ ধরার নৌযানের নিবন্ধন সনদ থাকা সত্ত্বেও মাছ ধরা থেকে বিরত রাখার অভিযোগ তুলেছিলেন ১৫ জন পেশাদার জেলে ও সনদপ্রাপ্ত সামুদ্রিক ট্রলারমালিক। গত ৬ জুলাই প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুলসহ ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়ে তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় মাছ ধরায় বাধা বা হয়রানি না করতে বলেছিলেন।

সেই আদেশের বিরুদ্ধে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের পরিচালকের পক্ষে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, বেহুন্দি জাল ব্যবহার ২০১৩ সাল থেকে এবং ভাসান জাল দিয়ে ইলিশ আহরণ ২০২০ সাল থেকে নিষিদ্ধ। এসব নিষেধাজ্ঞার কথা গোপন করে অভিযোগকারীরা হাইকোর্টের আদেশ নিয়েছিলেন এবং পরে সেই আদেশ দেখিয়ে ইলিশ ধরছিলেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ।

ফলে উপকূলীয় এলাকায় কেউ বেহুন্দি বা ভাসান জাল দিয়ে মাছ ধরতে পারবেন না এবং ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে চলমান নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী।