চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের একটি দল যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় আন্তর্জাতিক মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি কম্পিটিশন ২০২৬-এ সামগ্রিকভাবে প্রথম হয়েছে। মার্কিন কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হয়।

সংস্থাটির বরাতে দ্য ডেইলি স্টার ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে জমা পড়া নিবন্ধ যাচাই করে চূড়ান্ত পর্বে ৪০টি দলকে বাছাই করা হয়। ‘টিম চুয়েট সি’ সামগ্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ডিজাইন ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় হয়। বাংলাদেশের অপর দল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) দল সামগ্রিকভাবে চতুর্থ হয়। তারা ‘এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন’ ও ‘কংক্রিটে নান্দনিকতা’ বিভাগে দ্বিতীয় স্থান পায়।

বিচারকদের মূল্যায়নে মর্টারের প্রবাহক্ষমতা বা ফ্লোঅ্যাবিলিটির গুরুত্ব ছিল সবচেয়ে বেশি—মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ। স্থিতিশীলতা ছিল ২০ শতাংশ। বাকি নম্বর ভাগ করা হয়েছিল রিপোর্টের গুণমান (১৫ শতাংশ), কার্বন নিঃসরণ (১০ শতাংশ) ও খরচ-সাশ্রয়ের (৫ শতাংশ) ওপর।

টিম চুয়েট সি-র হয়ে মূল প্রতিযোগিতায় ছিলেন খন্দকার ফাহাদ আলম, স্বরূপ চন্দ্র মোদক, তানজিম মুশাররাত তুশিন ও সুমাইয়া বিনতে মান্নান। দলটির ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজার ছিলেন চুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক জিএম সাদিকুল ইসলাম। আইইউটির দলকে পরামর্শ দেন এসিআই বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি অধ্যাপক তারেক উদ্দিন।

বিজয়ী দলের সদস্য স্বরূপ চন্দ্র মোদক বলেন, এমন প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে নিজেদের সক্ষমতার সত্যিকারের পরিধি বোঝা যায়। “আমরা এখানে এসে আবারও বুঝেছি, আমরা অনেক কিছু অর্জন করতে পারি। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সব সময় প্রয়োজনীয় সুযোগ পাই না। সঠিক সম্পদ ও সুবিধা পেলে আমরা বিশ্বের যেকোনো জায়গায় নিজেদের দক্ষতা দেখাতে পারি।”

অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর চুয়েটের এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার অনলাইন প্রতিযোগিতায় ছয়টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে। গত বছর মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত সরাসরি প্রতিযোগিতায় দলটি চতুর্থ হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, মার্কিন মাটিতে সরাসরি প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সাফল্য দেখানো দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল, আর এবার তা পূরণ হয়েছে।