রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলোর পণ্যে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের যে বিধান যুক্তরাষ্ট্রের আইনে ছিল, তা কার্যকর হওয়ার একদিন আগে স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে তাৎক্ষণিক স্বস্তি মিলেছে ভারত ও চীনের মতো বড় ক্রেতাদের।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জারি করা এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় স্বার্থে’ ওই নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্ক স্থগিত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি কংগ্রেসে প্রত্যয়নপত্র পাঠিয়েছেন বলেও জানান। আইনটির নাম ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’, যা ট্রাম্প নিজেই গত সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষর করেছিলেন।

আইন অনুযায়ী, রুশ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের পণ্যে ৩০ দিনের মধ্যে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর কথা ছিল। ওই পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান। বিধানগুলো কার্যকর হওয়ার শেষ সময়সীমা ছিল ১৮ অক্টোবর। একই আইনে রুশ জ্বালানি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও ছিল।

স্থগিতাদেশ অবশ্য স্থায়ী নয়। নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় ‘পরবর্তী পদক্ষেপ যুক্তিযুক্ত’ মনে না হওয়া পর্যন্ত আদেশটি বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ আইনটি বাতিল হয়নি; প্রেসিডেন্ট চাইলে যেকোনো সময় শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা আবার কার্যকর করতে পারেন।

ভারত আগেই বলে এসেছে, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বৈচিত্র্যপূর্ণ উৎস থেকে তেল কিনবে এবং বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। তেলের ওপর সম্ভাব্য শুল্কের পরিণতি দুই দেশের সম্পর্ক ছাড়াও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়বে বলে সতর্ক করেছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, রাশিয়ার ওপর চাপ কমিয়ে দেওয়া ‘আক্রমণকারীকে উৎসাহিত করে’। ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি ডন বেয়ারও ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তবে রাশিয়ার বিনিয়োগ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ একে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি দাম বাড়ার শঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত বলে বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন। এ ঘটনার কয়েক দিন আগে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির বিষয়ে ট্রাম্পের এক সমঝোতার খবরও এসেছে। ভারতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সফরের আগে এই স্থগিতাদেশ আসায় নয়াদিল্লির জন্য তাৎক্ষণিক চাপ কমল।

বাংলাদেশ এই পাঁচ দেশের তালিকায় নেই। তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওঠানামা ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।