মঙ্গলগ্রহের চাঁদ ফোবস থেকে মাটি ও পাথরের নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার অভিযানে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে জাপানের মহাকাশযান ‘মার্শিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন’ (এমএমএক্স)। আগামী মঙ্গলবার জাপান সময় ভোর ৪টা ৪১ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ৪১ মিনিটে) তানেগাশিমা মহাকাশ কেন্দ্র থেকে এইচ থ্রি রকেটে চড়ে এর উৎক্ষেপণের সময়সূচি রয়েছে।

জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জাক্সা) জানিয়েছে, এমএমএক্স হবে মঙ্গলের কোনো চাঁদে অবতরণকারী প্রথম মহাকাশযান এবং মঙ্গল-ব্যবস্থা থেকে নমুনা ফিরিয়ে আনার প্রথম অভিযান। এতে সহযোগিতা করছে নাসা, ফ্রান্সের সিএনইএস, জার্মানির ডিএলআর এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ)।

যাত্রার প্রায় এক বছর পর আগামী বছর আগস্টে মহাকাশযানটি মঙ্গলের কাছাকাছি পৌঁছাবে এবং এরপর ফোবসের কক্ষপথে ঘুরে প্রায় তিন বছর ধরে পর্যবেক্ষণ চালাবে। ২০২৯ সালের শুরুর দিকে ফরাসি-জার্মান রোভার ‘ইদেফিক্স’ নামানো হবে, যা নিরাপদ অবতরণ ও নমুনা সংগ্রহের প্রস্তুতি হিসেবে ফোবসের পৃষ্ঠ পরীক্ষা করবে।

২০৩০ সালে মহাকাশযানটি ফোবসে অবতরণ করে অন্তত ১০ গ্রাম (০.৩৫ আউন্স) নমুনা সংগ্রহ করবে; দুই দফায় নমুনা নেওয়ার পরিকল্পনা আছে। নমুনা একটি ক্যাপসুলে ভরে ২০৩১ সালে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে, যা অস্ট্রেলিয়ায় অবতরণ করে পরে জাপানে নিয়ে বিশ্লেষণ করা হবে।

দুই ধরনের নমুনা-সংগ্রাহক ব্যবহার করা হবে। কোরার নামের যন্ত্রটি দুই সেন্টিমিটার গভীরতা থেকে নমুনা নেবে; আর চাপযুক্ত গ্যাসচালিত অন্যটি পৃষ্ঠের আলগা উপাদান একটি পাত্রে তুলে নেবে।

অভিযানের মূল লক্ষ্য, ফোবস ও তার ছোট সঙ্গী ডেইমোস কীভাবে তৈরি হলো তা জানা। বিজ্ঞানীরা দুটি সম্ভাবনার কথা বলছেন: চাঁদ দুটি হয় মঙ্গলে বড় কোনো সংঘর্ষের পর ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি হয়েছে, নয়তো বাইরের সৌরজগত থেকে আসা গ্রহাণু মঙ্গলের মহাকর্ষে আটকে পড়েছে। ফোবসের নমুনা বিশ্লেষণ করলে এ রহস্য সমাধানের পাশাপাশি সৌরজগতের গঠন এবং প্রাণের জন্য জরুরি পানি ও জৈব উপাদানের উৎস সম্পর্কেও জানা যেতে পারে বলে আশা করছে জাক্সা।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে জাপান ‘হায়াবুসা-২’ অভিযানের মাধ্যমে সৌরজগতের দূরবর্তী একটি গ্রহাণু থেকে নমুনা ফিরিয়ে এনেছিল। মঙ্গল-ব্যবস্থা থেকে নমুনা প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে চীনের ‘তিয়ানওয়েন-৩’ অভিযানও ২০৩১ সালের মধ্যে নমুনা ফেরানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে।