ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সরকার গঠনের নিয়ামক বা ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠতে পারেন আরব দল ‘রাম’ বা ইউনাইটেড আরব লিস্টের নেতা মনসুর আব্বাস। দেশটির বহুদলীয় ব্যবস্থায় নেতানিয়াহুবিরোধী জোট যদি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তবে আব্বাসের সমর্থন ছাড়া তাদের সরকার গঠন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।
দন্ত চিকিৎসক থেকে রাজনীতিতে আসা ৫২ বছর বয়সী আব্বাস ২০১৯ সালে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে নির্বাচিত হন। তাঁর দল রাম গঠিত হয় ১৯৯৬ সালে ইসরায়েলের ইসলামিক মুভমেন্টের একটি শাখার হাত ধরে। তিনি দেশটির আরব নাগরিকদের—যাঁরা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ—সমস্যা, বিশেষ করে সহিংস অপরাধ ও বৈষম্যমূলক আবাসননীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন।
নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইহুদি ভোটারদের সতর্ক করে বলছেন, তিনি ক্ষমতাচ্যুত হলে পরবর্তী সরকারের প্রকৃত ক্ষমতা চলে যাবে আব্বাসের হাতে, যা ইসরায়েলের জন্য ‘ঘরের ভেতরের’ বিপদ। দেশটির ডানপন্থীদের অনেকের কাছেই আব্বাস ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত।
তবে আব্বাসের নিজের অগ্রাধিকারের তালিকায় পশ্চিম তীর ও গাজার বিষয় সামান্যই। গত আগস্টে নাজারেথে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেন, মধ্য-বামপন্থী আইনপ্রণেতা ও সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা ইহুদি ইয়াভ সেগালোভিচ রামের প্রার্থী তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকবেন। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই প্রথম ঘটনা, যখন কোনো জায়নবাদী দলের আইনপ্রণেতা একটি আরব নেতৃত্বাধীন দলে যোগ দেন।
২০২১ সালের নির্বাচনের পর আব্বাস প্রথমবার ‘কিংমেকার’ ভূমিকা পালন করেন। ওই বছর রাম প্রথম স্বতন্ত্র আরব দল হিসেবে ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন জোটে যোগ দেয় এবং নেতানিয়াহুবিরোধী জোট সরকার গঠন করে। টানা ১২ বছর পর প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান নেতানিয়াহু। পরের বছর নির্বাচনে জিতে তিনি আবার প্রধানমন্ত্রী হন এবং ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী সরকার গঠন করেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর আব্বাস সেই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং গাজা সীমান্ত এলাকা থেকে পালিয়ে আসা ইসরায়েলিদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে সহায়তা করেন। তাঁর এই অবস্থানের কারণে অনেক আরব নাগরিক তাঁর সমালোচনা করেন; আবার অনেকে মনে করেন, সমঝোতা তাঁর কর্মকৌশলেরই অংশ।
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি দলগুলোর সম্মিলিত অবস্থান ও তাঁর নিজের জোট প্রায় সমান এবং কোনোটিরই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন নেই। ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ১২টি আসনের দিকে এগিয়ে আছে। তবে নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের সম্ভাব্য নেতা গাদি এইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকারে যাওয়ার সম্ভাবনা ইতিমধ্যে নাকিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে গত সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি রাম ও যৌথ তালিকা—এই দুই আরব দলকে নির্বাচন থেকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে ভোট দেয়। সুপ্রিম কোর্টে সিদ্ধান্তটি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে; অতীতে অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ফল যাই হোক, আব্বাস ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী আরব রাজনীতিবিদ হয়ে উঠেছেন। তাঁর ভাষায়, লক্ষ্য এমন একটি সরকার গঠন, যেখানে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের কথা বলার সুযোগ ও প্রভাব থাকবে।



