ক্যান্সার চিকিৎসার ১৩৭টি ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে ট্রেড মার্জিনের ওপর ঊর্ধ্বসীমা আরোপ করেছে ভারত সরকার। এতে এসব ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
ভারতের রসায়ন ও সার মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ওষুধ মূল্যায়ন সংস্থা (এনপিপিএ) গত ১৭ অক্টোবর গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে ১৩৭টি অ্যান্টি-ক্যান্সার ওষুধের ট্রেড মার্জিন এমআরপির ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ করে। খবরটি প্রথমে দ্য হিন্দুস্তান টাইমস এবং পরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রকাশ করেছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন দাম কার্যকর হবে আগামী ৯ নভেম্বর থেকে।
তালিকায় রয়েছে ইমিউনোথেরাপির ওষুধসহ স্তন, প্রস্টেট, কোলন, ডিম্বাশয় ও জরায়ুমুখসহ ২০টিরও বেশি ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ। এর মধ্যে রয়েছে পেমব্রোলিজুমাব, নিভোলুমাব, বেভাসিজুমাব, ওসিমার্টিনিব, ডেনোসুমাব, পেগফিলগ্রাস্টিম, পালবোসিক্লিব ও ডুরভালুমাবের মতো ওষুধ।
এই পদক্ষেপ ২০১৯ সালের একটি পাইলট প্রকল্পের ধারাবাহিকতা। সে সময় ৪২টি অ্যান্টি-ক্যান্সার ওষুধের ট্রেড মার্জিন ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ করা হলে ৫২৬টি ব্র্যান্ডের দাম ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছিল।
সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট লক্ষ্য করেছিল, ২৭ হাজার রুপি এমআরপির একটি ওষুধ খুচরা বিক্রেতাকে মাত্র ২ হাজার ৭০০ রুপিতে সরবরাহ করা হচ্ছিল। সংশ্লিষ্ট মামলার পরবর্তী শুনানি ২৭ অক্টোবর।
নতুন ব্যবস্থায় ওষুধ কোম্পানিগুলোকে সাত দিনের মধ্যে সংশোধিত দাম জানাতে ও বিজ্ঞাপন দিতে হবে। হাসপাতাল ও ফার্মেসিকেও সংশোধিত মূল্যতালিকা প্রদর্শন করতে হবে। রোগীরা ‘ফার্মা সহি দাম’ অ্যাপ ও এনপিপিএর ওয়েবসাইটে দাম যাচাই করতে পারবেন।
তবে শুধু মার্জিন সীমিত করাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন রোগী ও চিকিৎসকদের একটি অংশ। সরবরাহ শৃঙ্খল ও রাষ্ট্রীয় ক্রয়ব্যবস্থায় সংস্কার না হলে সুফল পুরোপুরি পৌঁছাবে না বলে তারা মনে করছেন। বাস্তব প্রয়োগেই এর আসল পরীক্ষা।
ভারত বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসার অন্যতম গন্তব্য হওয়ায় ওষুধের দাম কমলে সেখানকার চিকিৎসা ব্যয়ও কমতে পারে।



