হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় নৌ মাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী সুপার ট্যাংকারে আগুন ধরেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। প্রতিটি জাহাজে ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে বলা হয়, জাহাজ দুটি নিজেদের অবস্থান নির্ণয় ও রাডার ব্যবস্থা বন্ধ করে ইরানের অনুমোদনহীন পথে যাচ্ছিল। আইআরজিসির দাবি, জাহাজগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করছিল; মাইনে আঘাতের পর দ্বিতীয় জাহাজটি অচল হয়ে পড়ে এবং ইঞ্জিন কক্ষে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে।
জাহাজ দুটির নাম, পতাকা বা মালিকানা কেউ জানায়নি। আইআরজিসি নাবিকদের অবস্থা বা সম্ভাব্য পরিবেশগত ক্ষতির ব্যাপারেও কিছু জানায়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, এই ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরান। যুদ্ধের আগে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে যেত। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেল রপ্তানির ওপর নৌ-অবরোধ দিয়েছে।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশে হামলা বেড়েছে। কেপলারের হিসাবে, ৮ অক্টোবর এই পথে ২০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পার হয়েছিল; ১১ অক্টোবর তা কমে দাঁড়ায় ২ দশমিক ৯ মিলিয়নে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ভোগ্যপণ্যের দাম ও ডলারের চাহিদায় চাপ পড়ে।



