সৌদি আরব চাইলে তাকে রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নেবে মিসর। শনিবার (১৭ অক্টোবর) মিসরীয় সামরিক একাডেমির একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এ কথা জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। তিনি বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা বা স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুপ করে থাকা মিসরের জন্য ‘অকল্পনীয়’।

আল-সিসি বলেন, আঞ্চলিক সংঘাতে মিসর ‘কোনো ভূমিকা রাখতে চায় না’ এবং কারও ওপর হামলা বা কারও সঙ্গে লড়াইয়ের কথা তারা ভাবছে না। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা কেবল প্রতিরক্ষার কথা বলছি।’ যেকোনো সামরিক মোতায়েনের জন্য মিসরীয় সংসদের অনুমোদন লাগবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি আরব অনুরোধ করলে যেন সংসদ জরুরি অধিবেশন বসে সেই অনুমোদন দেয়। মিসরীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) এ জরুরি অধিবেশন বসবে।

হুথিদের পাশাপাশি সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াইয়ের মধ্যেই এই অবস্থান জানাল মিসর। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে যোগ দিয়েছিল দেশটি; তবে সম্মুখযুদ্ধে নয়, বরং লোহিত সাগরের নৌপথ নিরাপত্তায় তাদের ভূমিকা ছিল বেশি।

আল জাজিরা ও পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হুথিরা সম্প্রতি সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হন। শনিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের ওপর চারটি ড্রোন তারা ধ্বংস করেছে।

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলআত্তি গত মাসে বলেছিলেন, ২০২৩ সাল থেকে হুথি হামলার জেরে সুয়েজ খাল থেকে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের আয় কমেছে। দেশটির বিদেশি মুদ্রার একটি বড় উৎস এই খাল।

এদিকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ওআইসির এক বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, সংঘাতের সমাধানে ‘সমন্বিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়া’ই একমাত্র বাস্তব ও টেকসই পথ। সৌদি আরব অবশ্য ইরানের বিরুদ্ধে হুথিদের উসকে দেওয়ার অভিযোগ করেছে, যা তেহরান অস্বীকার করেছে।